দিনাজপুরে ডেঙ্গুতে রিকশাচালকের মৃত্যু, রংপুর বিভাগে মৃত ৯

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরে হারুন (৪৮) নামে এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ অক্টোবর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন হারুন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।
হারুন ঢাকায় রিকশা চালাতেন। সেখানে থাকাকালীন তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কিন্তু জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে প্রায় ১৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন হারুন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রংপুর জেলায় ৫ জন, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন এবং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন মারা গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রংপুরে ৩০ জন, দিনাজপুরে ৩, লালমনিরহাটে ৭, গাইবান্ধায় ১৪ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ জন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৭২০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০৭ জন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সিটি করপোরেশন, পৌর এলাকাসহ প্রতিটি বাড়িতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সামান্য জ্বর দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।




