প্রশাসনিক ব্যস্ততায় ক্লাসে অনিয়মিত শিক্ষক, কমলগঞ্জে ব্যাহত পাঠদান

কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫২টি। এর মধ্যে ৯৬টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। আছেন ভারপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ না হওয়া এবং অনেক শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় প্রধান শিক্ষকের পদগুলো শূন্য হয়েছে। বর্তমানে এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, তাদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের ফলাফলেও।
বালিগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মতিউর রহমান বললেন, ‘তাদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
অভিভাবকরাও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, একটি বিদ্যালয়ের চালিকাশক্তি হলেন প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতির মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
বিষয়টি স্বীকার করে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বাবর জানান, শূন্য পদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নতুন নিয়োগ ও সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এ সংকট দূর হবে বলে আশা করেন তিনি।







