কুয়াকাটা সৈকত পরিষ্কার করলেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শুক্রবার সকাল ৮টায় কুয়াকাটা সৈকতের ডিসি বাংলো এলাকা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও কোলস গ্লোবালের যৌথ উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কুয়াকাটার স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেয়।
‘প্লাস্টিক মুক্ত কুয়াকাটা ২০২৬’ শীর্ষক এ অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক বর্জ্যসহ নানা ধরনের আবর্জনা সংগ্রহ করেন।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
০৫ জুন ২০২৬
আয়োজকরা জানান, কুয়াকাটা সৈকতকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণকে একটি সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়াই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা মনে করেন, কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতে হলে শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান যথেষ্ট নয়; বরং নিয়মিত সচেতনতা, দায়িত্বশীল পর্যটন আচরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব কুয়াকাটা গড়ে তুলতে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ, বিপিএম (সেবা), কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ, পরিবেশ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেফ শরীফ, টোয়াক ও কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ওসি আহদুজ্জামান, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল প্রমুখ।
কোলস গ্লোবালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নেহেরিন মাজিদ। সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মইনুল আহসান ফয়সাল।
মইনুল আহসান ফয়সাল বলেছেন, কুয়াকাটা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। প্লাস্টিকদূষণ সৈকত, সমুদ্র ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে ‘প্লাস্টিক মুক্ত কুয়াকাটা ২০২৬’ বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, পর্যটক, প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্লাস্টিকদূষণ কমানোর লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।






