ভাঙা সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ নিত্যযাত্রা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আলালপুর-বারুয়াখালী-সোনাবাজু সড়ক পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। বড় গর্ত আর ভাঙা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বারুয়াখালী তদন্ত কেন্দ্র থেকে সংকরদিয়া হয়ে শিকারিপাড়া সেতু পর্যন্ত সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে। ফলে কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা— তা বোঝা কঠিন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল আরোহী, ইজিবাইকচালক ও পথচারীরা।
সড়কটি বারুয়াখালী, জয়কৃষ্ণপুর ও শিকারিপাড়া ইউনিয়নের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ। পাশাপাশি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা ও জেলা সদরের একাংশের বাসিন্দারাও ব্যবহার করেন এই সড়ক। চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং কর্মস্থলে যাতায়াত— সব ক্ষেত্রেই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
এলাকাবাসী বলছেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষের ওপর।
শিকারিপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী সুরমিলা আক্তারের ভাষায়, ভাঙা রাস্তার কারণে সময়মতো কলেজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে আরও খারাপ হয় পরিস্থিতি।
যানবাহনচালকদের অভিযোগ, ঝুঁকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে গাড়ি। রাস্তার গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশের কারণে প্রায়ই নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রাংশ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও থাকতে হয় উদ্বেগে।
ইজিবাইকের যাত্রী বললেন, এ পথে চললে মনে হয় যেন ঢেউয়ের ওপর দিয়ে চলছি। এত বেশি গর্ত যে, প্রতিটি যাত্রাই কষ্টকর। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের জন্য এ সড়ক অত্যন্ত দুর্ভোগের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক দিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ হয়নি দৃশ্যমান। বারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ আব্দুল্লাহ আল মামুন খানের মতে, এটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনা বাড়ছে।
‘বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন’— বললেন তিনি।
দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. নাজমুল করিম। সংস্কারকাজের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে— জানালেন তিনি।




