নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মর্টারশেল, মা-বাবার সামনেই ছিন্নভিন্ন কিশোর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। জুমক্ষেতে খেলতে গিয়ে কুড়িয়ে পাওয়া মর্টার শেলটি নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় আকস্মিক বিস্ফোরণে মা-বাবার চোখের সামনেই প্রাণ হারায় সে।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের মরিঙ্গাঝিরি এলাকায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন একটি জুমক্ষেতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সতনাইং থাকত ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকায়। তার বাবা কিংহ্লা তঞ্চঙ্গা। পরিবারটি মূলত মিয়ানমারের মণ্ডু জেলার ডেকিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে পুলিশে জানায়, মঙ্গলবার সকালে সতনাইং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে জুমের কাজ করতে গিয়েছিল। দুপুরে আশপাশে খেলাধুলা করছিল সে। তখন একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল খুঁজে পেলে সেটি নিয়ে খেলতে শুরু করে। হঠাৎ বিকট শব্দে সেটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই ছেলেটির মৃত্যু হয়।
বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় মা-বাবার সামনেই তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান, ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে এবং মিয়ানমারের প্রায় ১০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে বাইশফাঁড়ী এলাকায় নিয়ে আসেন।
সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।




