মাতামুহুরীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ছবি: আগামীর সময়
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এই দুই উপজেলার নিচু এলাকার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টা কক্সবাজার জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। নদীটির উজানে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় ভারী বৃষ্টি হওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে পানি বাড়া অব্যাহত আছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা দুদিনের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, চিরিংগা, বরইতলী, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢল নেমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। কিছু ঘরবাড়িতেও পানি উঠেছে। বরইতলীর গোবিন্দপুর, ফাঁসিয়াখালীর ছড়ারকুল, ভাঙারপাড়া ও চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামে বৃষ্টির পানি এবং পাহাড়ি ঢল নামে। ছড়া, খাল, বিল ও নদীর অববাহিকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, মাতামুহুরি নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যায় ৬টায় নদীতে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। এতে উজানে বৃষ্টি হলে নদীতে পানি বাড়তে থাকবে। আলীকদম ও লামায় বৃষ্টিপাত কমলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেছে প্রশাসন। চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিলসহ ১০টি ইউনিয়নের পাহাড় ও এর পাদদেশে অন্তত ১৫ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেছেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।’




