আয়া দিয়ে প্রসব, শেবাচিমে নবজাতকের মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলা, আয়া দিয়ে জোরপূর্বক প্রসব করানো এবং ভুল চিকিৎসার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক বরাবর আজ বুধবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিশুটির বাবা জামাল হাওলাদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানী সড়কের বাসিন্দা জামাল হাওলাদারের স্ত্রী মনি (৪০) গর্ভধারণের পর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। পরিবারের দাবি, সব পরীক্ষায় মা ও শিশু সুস্থ ছিলেন। চিকিৎসক আগে থেকেই সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
গত ২৪ অক্টোবর সকালে প্রসবের সময় হলে মনিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে আল্ট্রাসনোগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও শিশু সুস্থ আছেন জানিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। স্বজনেরা সিজারিয়ান অপারেশনের অনুরোধ করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাতে রাজি হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে সেদিন রাতেই প্রসববেদনা তীব্র হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মনিকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জামাল হাওলাদারের অভিযোগ, রাত ৩টার দিকে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের বারবার ডাকা হয়। তবে তারা আসেননি। এ সময় নার্স সুপারভাইজার স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে কোনো চিকিৎসক বা নার্সের উপস্থিতি ছাড়াই হাসপাতালের তিনজন মেডিকেল আয়া জোর করে প্রসব করান বলে অভিযোগ করেন জামাল। এতে প্রসূতি ও নবজাতক দুজনই গুরুতর আহত হন বলে তার দাবি। পরে প্রসূতির শরীরে ১৪টি সেলাই দিতে হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সন্তান প্রসবের পর বকশিশের টাকা চেয়ে আয়ারা নবজাতককে প্রায় ৩০ মিনিট স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেননি। পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার পর শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নবজাতককে পাওয়ার পরপরই চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে শিশুটির অবস্থা গুরুতর এবং সে আহত বলে জানানো হয়। পরে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়।
সন্তান হারিয়ে জামাল হাওলাদার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্স এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আয়াদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে পরিচালকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।



