ছয় মাস সৌদির কারাগারে ফরহাদ, মুক্তি চায় পরিবার
- কী কারণে কারাবন্দি তা জানে না পরিবার
- মুক্তির আবেদন করা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন একমাত্র ছেলে আবুল হাসান ফরহাদ (২৫)। স্বপ্ন ছিল— প্রবাসের আয় দিয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিবারের দুঃখ ঘোচাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। ছয় মাস ধরে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকার একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন ফরহাদ। কী কারণে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে, তা জানে না তার পরিবার। ছেলের বন্দিত্বের খবরে থামছে না মায়ের কান্না। তার মুক্তির অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবারের সদস্যরা।
ফরহাদ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের উত্তর তারাকুচা গ্রামের মফিজুর রহমান বাড়ির বুলবুল আহমেদের দুই সন্তানের মধ্যে বড়। স্থানীয় আমজাদহাট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর কয়েক বছর আমজাদহাট বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করেছেন তিনি।
চার বছর আগে সৌদি আরবপ্রবাসী খালু নুরনবীর সহযোগিতায় দেশটিতে যান ফরহাদ। সেখানে কাজ নেন দাম্মাম সুপার মার্কেটের একটি সুপার শপে। ভালোই চলছিল তার প্রবাসজীবন। তবে হঠাৎ একদিন বদলে গেল সব।
ফরহাদের নানা মফিজুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, জামাতা নুরনবীর কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে দাম্মাম সুপার মার্কেটের পাশের একটি মহল্লা থেকে কে বা কারা ধরে নিয়ে যায় ফরহাদকে। তবে কারা, কী কারণে তাকে ধরে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি তারা। ‘প্রায় এক মাস আগে ফরহাদ বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে, তা জানাতে পারেননি’— যোগ করলেন মফিজুর রহমান।
ফরহাদের বাবা বুলবুল আহমেদ ২০ বছর ধরে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের করাচিতে। ছেলের বন্দিত্বের খবরে দিশাহারা তিনি। বলছিলেন, ‘আমার ছেলের এলাকায় যথেষ্ট সুনাম ছিল। সবাই তাকে ভালো ছেলে বলে জানত। কারও সঙ্গে কখনো কোনো সমস্যা ছিল না। কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে, তার কিছুই আমরা জানি না।’ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ছেলের মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে উল্লেখ করে বুলবুল আহমেদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
‘আমার ছেলে জানামতে কোনো দোষ করতে পারে না’— কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ফরহাদের মা ফেরদৌস আক্তার। প্রথম কয়েক মাস ফরহাদের পরিবার তাকে নিখোঁজ মনে করত। এক মাস আগে জানতে পারেন, ছেলে কারাগারে বন্দি। ছেলের মুক্তির জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন ফেরদৌস আক্তার।
ফরহাদের খালা নার্গিস আক্তার ও মামা সরোয়ার জাহান রুবেলের অভিযোগ, বারবার খোঁজ নিয়েও ফরহাদের বন্দিত্বের কারণ জানতে পারেননি তারা।
বন্ধুর মুক্তির বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করে ফরহাদের বাল্যবন্ধু মিনহাজুল ইসলাম সায়েম ও প্রিয়ম মাহমুদ জানিয়েছেন, ফরহাদ তাদের ছেলেবেলার সঙ্গী।



