কিশোরগঞ্জে দুদিনে পানিতে ডুবে ৯ মৃত্যু
- মৃতদের মধ্যে সাতজনই শিশু

সংগৃহীত ছবি
মাত্র দুদিনের ব্যবধানে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে সাতজনই শিশু। নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব, করিমগঞ্জ, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ সদর ও ইটনায় ঘটে পৃথক এসব দুর্ঘটনা। গত শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত নিকলী, মিঠামইন, কটিয়াদী, ভৈরব ও করিমগঞ্জে পৃথক পাঁচটি ঘটনায় চার শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলো— নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদনগরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে ও মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২) এবং সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার নিকলীর নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায় শিশু হাকিম। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই দিন শিক্ষা সফরে মিঠামইনের হাওরে ঘুরতে এসে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় গোসল করতে নেমে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন। দুপুর ২টার দিকে কটিয়াদীর দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া সহপাঠীদের সঙ্গে বিলে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যায়। অন্যদিকে ভৈরবের শুভ ইসলাম স্মরণ গত বৃহস্পতিবার গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বিকালে জগন্নাথপুর এলাকার নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে শুক্রবার বিকালে পরিবার নিয়ে হাওরে বেড়াতে গিয়ে মেয়ে পানিতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানালেন, মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা না ভেবেই পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে গত শনিবার দুর্ঘটনার মিছিল আরও দীর্ঘ হয়। বাজিতপুর পৌরসভার মিরারবন্দ এলাকায় বাড়ির পাশে খেলা করতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে মারা যায় তাসিন (৫) ও মাওয়া (৫)।
একই দিন সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যান ফয়সাল (২২)। তিনি লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ি ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া এলাকায় নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফাইজা (৮) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকালে ভাইয়ের সঙ্গে গোসল করতে নেমে সাঁতার না জানায় সে পানিতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরদিন সকালে ঘটনাস্থলের কাছেই নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।




