প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় রাস্তাজুড়ে দুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
দেশের প্রাচীনতম প্রথম শ্রেণির পৌরসভাগুলোর একটি ঝালকাঠি পৌরসভা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৭৫ সালে। তবে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা এটি কেবল কাগজে-কলমে। নাগরিক সুবিধার দিক থেকে যেন আটকে আছে এক অন্ধকার গলিতে।
বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে জেলা শহরটির ১১টি প্রধান সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল। পৌর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দাকে প্রতিদিন পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
সরেজমিনে পৌরসভার ব্র্যাকমোড়, টিএন্ডটি রোড, স্ট্যান্ড রোড, সুতালরী, বাঁশপট্টি, কাঠপট্টি, স্টেশন রোড ও সিটি পার্ক সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উঠে গেছে পিচ ও খোয়া। এসব সড়কে যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে।
আবার অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সড়কের গর্ত তলিয়ে গিয়ে আরও বাড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায় বর্ষা মৌসুমে।
স্ট্যান্ড রোড এলাকার ব্যবসায়ী নূরউদ্দিন জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে পড়ে দোকান ও বাসাবাড়িতে। বছরের পর বছর সড়ক ও ড্রেন সংস্কার না হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসা চালানো।
ব্র্যাকমোড়ের বাসিন্দা মিলন তালুকদার বলেছেন, ‘অনেক সময় সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর। রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা অনেক ক্ষেত্রে এ পথে চলাচলে অনীহা দেখান।’
একই অভিযোগ স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের। অটোরিকশাচালক হৃদয় ফকিরের ভাষ্য, ‘ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। আয় কমে যাচ্ছে, অথচ মেরামত ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সবসময় থাকে।’
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন উদ্বেগ। ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেছেন, ‘একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা এমন দুর্ভোগে থাকবে, তা কাম্য নয়। তবে ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের উদ্যোগ গ্রহণ ইতিবাচক। দ্রুত ও টেকসই বাস্তবায়ন জরুরি।’
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের স্থবিরতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে এ ভোগান্তি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নকে। এসব জানিয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।
তার তথ্য, পৌরসভার বেহাল ১১টি সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে রাস্তাঘাট, ড্রেন সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ।
উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হলে নাগরিক ভোগান্তি কমে আসবে এবং ঝালকাঠি পৌরসভা প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন তিনি।


