খাদ্য কর্মকর্তার ফেসবুক পোস্ট
এ রকম অপরাধ কে না করে, আমিও করছি

মো. হুমায়ুন খালিদ। সংগৃহীত ছবি
দুর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ। এই বদলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, সম্প্রতি মদন উপজেলায় ২০ টন চাল জব্দ করেছে প্রশাসন। পরে তদন্তে খাদ্য গুদামে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪৪ টন চাল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মদন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল মিয়াকে বদলি করা হয় বরগুনার পাথরঘাটায়। একই ঘটনায় বদলি করা হয়েছে গুদাম কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমকেও।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট দেন মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ। পরে সমালোচনার মুখে গতকাল শনিবার সেটি সরিয়ে নেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘গুদাম কর্মকর্তার বাইরে যারা গুদামকে শাসন করেন, তাদের বাইরে যেতে পারে বাংলাদেশে একজন কর্মকর্তাও নাই। পারা যায় না, যারা টিআর-কাবিখা পায় তারা প্রভাবশালী বটে। তিনি (দুলাল মিয়া) প্রভাবশালীদের তথ্য গোপন রেখেছেন! এরকম অপরাধ কে না করে, আমিও করছি। তাহলে আমাদের সবাইকে বদলি করেন।’
দুলাল মিয়াকে দূরবর্তী এলাকায় বদলি করায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধু তোমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। তুমিও জানো, আমিও জানি—দুধে ধোয়া তুলসী পাতা আমাদের ডিপার্টমেন্টে কয়জন! কোনো ঘটনা ঘটার আগে আমরা সবাই তুলসীপাতা।’
খাদ্য বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে মোহনগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টটির মাধ্যমে খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিব্রতবোধ করেন মোহনগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হুমায়ুন খালিদ। সিএনজিতে আছেন বলে ফোনটি কেটে দেন তিনি।
বিষয়টি অবহিত করলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেছেন, ‘এ বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি, আমি খুজতেছি। তবে কোনও কর্মকর্তাই অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না।’






