নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় স্বামীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের আচুরা গ্রামের আজিজ ঢালীর বাগানে এ ঘটনা ঘটে। রাতেই পুলিশের বিশেষ অভিযানে মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তারা হলেন, আচুরা গ্রামের মো. রাব্বি (২৮), পালং উপজেলার আটিপাড়া এলাকার হযরত আলী খন্দকার (৪২) এবং আচুরা গ্রামের ইমন খন্দকার (২৬)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে অভিযুক্ত হযরত আলী খন্দকার মোবাইল ফোনে কল করে ওই নারীর স্বামীকে বাগানে ডেকে নেন। তিনি সেখানে পৌঁছালে রাব্বি, হযরত ও ইমনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজন তার হাত-পা বেঁধে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ফোন করে বাসায় থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
অভিযোগকারী নারীর অভিযোগ, ‘আমার স্বামী ফোন করে ঘরে থাকা স্বর্ণের চেইন ও কিছু টাকা নিয়ে যেতে বলেন। পরে হযরত খন্দকারের লোকজন অটোরিকশায় করে আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছে আমি হযরত খন্দকারের হাতে স্বর্ণের চেইন ও টাকা তুলে দিই। এরপর তারা আমার স্বামীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর কথা বলে এবং একের পর এক আমাকে ধর্ষণ করে।’
বাগানের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। স্থানীয় ছামিউল বললেন, ‘চিৎকার শুনে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি, ওই নারী বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং তার স্বামীকে পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই নারীকে কাপড় দিয়ে ঢেকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয় এবং ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।’
নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে। রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বললেন, ‘৯৯৯-এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক পরীক্ষা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’




