সিউক চেয়ারম্যান
দ্রুত বর্ধনশীল নগরে নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা হবে

ছবি: আগামীর সময়
দ্রুত বর্ধনশীল নগরগুলোতে নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি বলেছেন, দ্রুত বর্ধনশীল নগরগুলোতে নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি নাগরিকের সর্বজনীন বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও আধুনিক নগর সুবিধার প্রসারে সরকার বদ্ধপরিকর।
আজ সোমবার সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিউক চেয়ারম্যান বলেছেন, স্মার্ট ও টেকসই সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সিলেটকে একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথাও জানালেন তিনি।
তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য শুধু আবাসন নির্মাণই যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সুবিধা এবং জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মফিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সায়েম প্রধান শামীম (পিপিএম), গণপূর্ত বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর প্রিন্স, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে নগর পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সর্বসাধারণের জন্য আবাসন সুবিধা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেছেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে সৃষ্ট নানা সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি ও বেলুন উড্ডয়নের আয়োজন করা হয়। পরে আলোচনা সভা এবং ইসিপিএসের (ই-প্ল্যানিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন পারমিট সিস্টেম) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়নের বিভিন্ন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম অংশগ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া নাস হোল্ডিং ভেঞ্চার বিডি লিমিটেড, বার্জার, বিএসআরএম, খাদিম সিরামিক্স ও লাফার্জসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে পরিকল্পিত নগরায়ণে উৎসাহিত করতে চিত্রাঙ্কন, আবাসনবিষয়ক ভাবনা প্রতিযোগিতা, মডেল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরায়ণসংশ্লিষ্ট ৩০টিরও বেশি ভাবনা জমা পড়েছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



