হিজলায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন বেপারী। রবিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের শাওড়া বাজারে ঘটে এ ঘটনা।
গুরুতর আহত ফরিদ উদ্দিন বেপারীকে ভর্তি করা হয়েছে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলম শরীফ সিকদার, জসিম উদ্দিন সিকদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বাবুর্চি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার মাঝিসহ অন্যদের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদ উদ্দিন বেপারীর ছেলে আমানের দাবি, তার বাবা হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আছরের নামাজের পর শাওড়া বাজারে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লা, হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রয়াত গাফফার তালুকদারের ছেলে তানভীর তালুকদার, মামুন দেওয়ানসহ সশস্ত্র ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালায়। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার বাবার একটি পা ভেঙে দেয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্যদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার এবং মেঘনা নদীর তীরের মাছঘাটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনির দেওয়ানের অনুসারী ফরিদ উদ্দিন বেপারী এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন দপ্তরীর অনুসারী ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ একাধিকবার হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এর আগে ফরিদ উদ্দিন বেপারীর অনুসারীদের হামলায় ইসমাইল মোল্লার পা ভেঙে যায়। পরে সুস্থ হয়ে কয়েক দিন আগে তিনি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় গেলে বহরের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ হামলার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন বেপারীকে ক্ষতিপূরণের ৭০ শতাংশ এবং ইসমাইল মোল্লাকে ৩০ শতাংশ জরিমানা করে।
স্থানীয়দের দাবি, ফরিদ উদ্দিন বেপারী জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং এর জের ধরেই শাওড়া বাজারে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হিজলা থানার ওসি মো. সোলায়মান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।




