ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যার পর দুর্ঘটনার নাটক সাজানোর অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগমের মৃত্যু সড়ক দুর্ঘটনায় হয়নি; তাকে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের সময় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে মরদেহ সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে করা হয়েছে গ্রেপ্তার।
গ্রেপ্তাররা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার শাহজাহান মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তার, বিরাসার এলাকার হিলু মিয়ার ছেলে মো. বাদশা, নরসিংসার এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে জোবায়ের হোসেন হৃদয় এবং আশুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন।
জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং বুধবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করে এ তথ্য।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কুমারশীল মোড় থেকে জাহানারা বেগম একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। আশুগঞ্জের পথে যাওয়ার সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চালায় চেষ্টা। তিনি বাধা দিলে তাকে করা হয় ছুরিকাঘাত। পরে অষ্টগ্রাম এলাকায় সড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে জায়েদুর রহমান খান ইমন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় করেন হত্যা মামলা। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে করা হয় হস্তান্তর।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ‘মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন’ লেখা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা করা হয় শনাক্ত। এর সূত্র ধরে ১৮ মে সদর উপজেলার ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি সিএনজি গ্যারেজ থেকে গাড়িটি জব্দ করা হয় এবং চালক মো. বাদশা মিয়াকে করা হয় গ্রেপ্তার।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর পৈরতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শরীফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে শরীফের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত কাপড় ও জুতা উদ্ধার করা হয়। একইভাবে জোবায়ের হোসেন হৃদয়ের ব্যবহৃত রক্তমাখা জিন্স প্যান্টও করা হয় জব্দ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




