ফেনীতে থামছে না চুরি-ডাকাতি
‘দুই ব্যক্তি কলিং বেল বাজিয়ে বাসায় ঢুকে আমাকে বাথরুমে বেঁধে রাখে’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে নিয়মিত। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই তৎপরতার মধ্যেও থামছে না চুরি-ডাকাতির ঘটনা। গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩৫টি চুরি ও ৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। চুরি হয়েছে পাঁচটি মোটরসাইকেল, লুট হয়েছে প্রায় ২৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা। যদিও এসব ঘটনায় পুলিশ ২৫ এবং স্থানীয় লোকজন আরও ১৫ জনকে আটক করেছে।
চুরির ঘটনাগুলো শুধু বাসাবাড়িতে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মোটরসাইকেল রাখার স্থান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ঘটছে। কোথাও সিসিটিভি ক্যামেরা, কোথাও পানির মোটর, আবার কোথাও ঘরের ব্যবহার্য সামগ্রীও নিয়ে গেছে চোরের দল। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
শহরের ট্রাংক রোডের মো. মহসিনের ভাষ্য, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের জহিরিয়া মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল রেখে নামাজ পড়তে যান তিনি। ফিরে এসে দেখেন মোটরসাইকেলটি নেই। পরে থানায় অভিযোগ করেন, কিন্তু এখনো সেটির সন্ধান পাননি।
একই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা মনিরুল হক মোহন ও হাজারী বাড়ির শওকত ইমরান হাজারীর দুই ভাড়াটিয়া। তাদের দুটি মোটরসাইকেল সম্প্রতি চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেখা গেলেও তাদের শনাক্ত বা আটক করা যায়নি।
মোটরসাইকেলের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটছে। পৌর এলাকার সুলতানপুরের বাসিন্দা মীর মুরাদের ভাষায়, শ্বশুরের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, আলমারির তালা ভেঙে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫০ পাউন্ড ও ১ হাজার ২০০ ডলার নিয়ে গেছে চোরের দল।
বাসায় থাকা মানুষের উপস্থিতিতেও ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। মহিপালের শাহানা আক্তার বললেন, ‘দুই ব্যক্তি কলিং বেল বাজিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। আমাকে বাথরুমে বেঁধে রাখে। পরে তারা ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১০ লাখ টাকা নিয়ে যায়।’
শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের খোন্দকার বাড়িতে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বাসায়ও ঘটেছে ডাকাতির ঘটনা। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন ভরি স্বর্ণ ও ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাসাবাড়িতে এমন ঘটনার পাশাপাশি দাগনভূঞার কয়েকটি গ্রামেও ঘটেছে একাধিক চুরির ঘটনা।
উত্তর বারাহিগোবিন্দ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইমরানের দাবি, ডাকাতরা দরজা ভেঙে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে আলমারি ভেঙে দেড় ভরি স্বর্ণ ও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেলেও চেতনানাশকের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তারা বাধা দিতে পারেননি। পরে পরিবারের দুই সদস্যকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরাও চুরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন জানালেন, তাদের বাড়ির তিনটি ঘর থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে চোরের দল।
আরেক বাসিন্দা আকাশ জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি থেকে হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়েছিল। পরে এসব সামগ্রী মোল্লাঘাটা বাজারে বিক্রি করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তিনজনকে আটক করে পুলিশে দেয়।
বারাহিগোবিন্দ এলাকায় সম্প্রতি তিনজনকে স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দেয় বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। জোনাকি জনপ্রত্যাশার পরিচালক ফজলুল কাদের শামীমের দাবি, গোডাউন কোয়ার্টার এলাকায় স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজন একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে।
চুরির ঘটনা থেকে বাদ যায়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ফেনী পাইলট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ দীবা খানম বললেন, ‘সম্প্রতি বিদ্যালয় থেকে পানির মোটরসহ কয়েকটি মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে।’
শিক্ষক নেতা মহিউদ্দিন খোন্দকারের দাবি, গত এক মাসে জেলার পাঁচ থেকে সাতটি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে ২৫ জনকে। পরে তাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয়েছে আদালতে। চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’





