সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের হাতে সিভিল সার্জনের গাড়ি, প্রাইভেটে ভাড়া ৩ গুণ

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনের গাড়ি চালক অসুস্থ, তাই প্রেষণে নেওয়া হয়েছে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক দেবাশীষ অধিকারীকে। আর এতেই ২৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি। বিপাকে পড়েছেন হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার রোগীরা। বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
গত ১৪ এপ্রিল দাখিল পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন সখিপুরের কামালিয়াচালা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নাসির ও রাকিব। তাদের সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিন্তু সখিপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের।
রাকিবের মামা মো. আব্দুল কুদ্দুস আগামীর সময়কে বলছিলেন, পরীক্ষা শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমার ভাগ্নের হাত ও পা ভেঙে যায়। পরে তাকে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে নিতে ব্যক্তিমালিকানাধীন অ্যাম্বুলেন্সে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালটির একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ রয়েছে গত ২৬ এপ্রিল থেকে। ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো বিষয়টি সমাধান মেলেনি। বাড়তি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের।
সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, বুধবার থেকে গত ২৪ দিনে প্রায় শতাধিক মুমূর্ষু রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাননি তারা।
বাসাইল উপজেলার কাউলজানী থেকে আগত রোগী হাসি আক্তার আগামীর সময়কে বলেছেন, জরুরি অপারেশন করাইতে আমাকে ময়মনসিংহ যাইতে হবে। কিন্তু হাসপাতালে সরকারি এম্বুলেন্স বন্ধ থাকার কারণে বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ময়মনসিংহ যেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে আগত রোগীদের ভাষ্য, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ৮০০ টাকা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু বেসরকারি ব্যক্তি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত ভাড়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ সবুর রেজা আগামীর সময়কে বলেছেন, সিভিল সার্জনের সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সের চালককে নিজের গাড়ির চালক হিসেবে প্রেষণে নেওয়া ঠিক হয়নি। শুনেছি বাসাইল ও ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালকদেরও ইতিপূর্বে দুই মাস করে প্রেষণে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেছেন, সিভিল সার্জন ইচ্ছে করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারতেন। তিনি সে পন্থা অবলম্বন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং সখিপুর উপজেলার রোগীদের হয়রানি করছেন।
এ বিষয়ে সখিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব আগামীর সময়কে বলছিলেন, সিভিল সার্জন সাহেবের এরকম অমানবিক, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সখিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগীরা অ্যাম্বুলেন্সে সেবা থেকে প্রতিদিনই বঞ্চিত হচ্ছেন। ওই সকল রোগীদের ব্যক্তি মালিকানার অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে বাড়টি ভাড়া দিয়ে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
কথা হয় সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক দেবাশীষ অধিকারীর সঙ্গে। ‘সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছাড়পত্র পেয়ে ২৬ মে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জনের গাড়ি চালক হিসেবে যোগদান করেছি। আবার যদি সখিপুরে যাওয়ার কোনো অফিসিয়াল নির্দেশনা পাই, তাহলে অবশ্যই চলে যাবো।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভীন আগামীর সময়কে বলেন, নির্দেশনাপত্র অনুযায়ী ছাড়পত্র দিলেও সিভিল সার্জনকে রোগীদের আর্থিক দুর্ভোগের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুল আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, আমার গাড়ি চালক অসুস্থ থাকায় আগেও দুটি উপজেলার অ্যাম্বুলেন্স চালককে দুই মাস করে প্রেষণে এনেছিলাম। সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালককেও দুই মাসের জন্য আনা হয়েছে।





