পাম্পের লাইনে সরু মহাসড়ক, দেড় কিলোমিটার পথে ২ ঘণ্টা

ছবি: আগামীর সময়
দিন চারেক আগে আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকা থেকে জিরানীর দিকে যাচ্ছিলেন আশুলিয়ার শাহিনুর ইসলাম। বাসে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পড়েন তীব্র যানজটে। পল্লীবিদ্যুৎ থেকে বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পথে চলে যায় প্রায় ২ ঘণ্টা। এরপর বাইপাইল থেকে জিরানী পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন ১৫ মিনিটেই।
‘ওইদিন বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে আজিজ পাম্পে তেল বিক্রি হচ্ছিল। এজন্য শ শ বাইক তেল নিতে পাম্পে ভিড় করেছিল। সেই ভিড় মহাসড়কে গিয়ে ঠেকায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল’- দেড় কিলোমিটারের সেই যানজটের কারণ ব্যাখ্যা করলেন শাহিন।
আশুলিয়া মহাসড়কের নিয়মিত যাত্রী ও চালকদের এমন অভিজ্ঞতা নতুন। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের পর থেকে এমন যানজটে পড়ছেন তারা। তেলের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রভাব ফেলছে মহাসড়কে।
ঢাকার আশুলিয়ায় মহাসড়কঘেঁষা পেট্রোল পাম্প আছে অন্তত দশটি। দুই-তিনদিন পরপর শিডিউল করে সেগুলোতে বিক্রি হয় অকটেন-ডিজেল। সরেজমিনে শনিবার দুপুরে তিনটি পাম্পের বাইরে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।
একটি পাম্প থেকে আরেকটির দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার। প্রতিটি পাম্পের সীমানা ছাড়িয়ে লাইন গিয়ে ঠেকেছে মহাসড়কের এক লেনের প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত। পাম্প কর্তৃপক্ষ সুশৃঙ্খলভাবে জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা করলেও সামাল দেয়া যাচ্ছে না বাইরের চাপ। দুই লেনের মহাসড়ক পাম্প এলাকায় এসে হয়ে পড়ছে সরু। ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক যানচলাচল।
এই মহাসড়কে নিয়মিত আনাগোনা প্রাইভেটকার চালক আবুল কালাম আজাদের। জানালেন তার অভিজ্ঞতা।
‘মহাসড়কের এক লেন দখল করে জ্বালানি নিতে আসা গাড়িগুলো লাইনে দাঁড়ায়। আবার কখনও কখনও কিছু গাড়ি লাইন ভেঙে পাম্পে ঢুকার চেষ্টা করে। তখনই মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে লেগে যায় জট।’
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারীদের অভিযোগ, পাম্পে তেল বিক্রি শুরু হলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পড়ে মহাসড়কে। যখন যে পাম্পে তেল বিক্রি হবে, তখন ওই পাম্প এলাকায় মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখতে হাইওয়ে পুলিশ বা ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
‘যেদিন তেল বিক্রি করা হয়, সেদিন পাম্পে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থানা পুলিশ কাজ করে। তবে তেল নিতে যাওয়া যানবাহনের জন্য সড়কে স্বাভাবিক যানচলাচল ব্যহত হলে হাইওয়ে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে সেখানে কাজ করে’- বললেন সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শাহজাহান।

