‘আমি বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করে আনন্দ পাই’

আজ পর্দা উঠছে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপের। এ উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এর ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। দেশের অলিগলি, শহর থেকে গ্রাম— সবখানে এখন শোভা পাচ্ছে পছন্দের বিভিন্ন দেশের নানা রঙের পতাকা। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই পতাকা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হলেও, কিছু মানুষের কাছে তা জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন ফেরি করে বিভিন্ন দেশের ও নানা আকারের পতাকা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবেই দেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক বেশি থাকায় এই দুদেশের পতাকাই বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের পতাকার চাহিদাও চোখে পড়ার মতো। কেন্দুয়া সদর বাজারে কাঁধে ও পিঠের ব্যাগে বিশালাকার পতাকার বাঁশ বেঁধে বিক্রি করতে এসেছেন পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাসিন্দা জীবন মিয়া।
বুধবার (১০ জুন) বিকালে আলাপকালে তিনি জানালেন, দীর্ঘ চার বছর তিনি এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। এ সময়ে পতাকা বিক্রি করে অর্জিত আয়ে চার সদস্যের পরিবারের মুখে হাসি ফোটে।
জীবন মিয়া বললেন, ‘তীব্র রোদ আর গরমের মধ্যে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে এক হাট থেকে অন্য হাটে ঘুরে বেড়াতে হয়। পতাকা ছোট আকার ও বড় আকারের হয় এবং দামও ভিন্ন হয়। প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি হয়। সব খরচ বাদে দৈনিক প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মতো লাভ থাকে।’
পতাকা কিনতে আসা আর্জেন্টিনার সমর্থক আয়েস উদ্দিন বলেছেন, ‘আমি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করি তাই প্রতি বছরই পতাকা কেনা হয়। এবার ও আর্জেন্টিনার একটি পতাকা ১০০ টাকা দিয়ে কিনেছি।’
ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ আর নিজের জীবিকার মেলবন্ধন ঘটিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেছেন, ‘মানুষ মনের আনন্দে পছন্দের দলের পতাকা কেনে। আর আমি সেই পতাকা বিক্রি করে চারজনের সংসার চালাই। বিশ্বকাপ এলে ফুটবলপ্রেমীদের মতো আমিও বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করে আনন্দ পাই।’





