লালমনিরহাটে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করলেন কৃষকরা

ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। এ সময় সার ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণের অভিযোগ তোলেন তারা। প্রায় ১ ঘণ্টা অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হলেও স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তি সার বিতরণ করেন। তাদের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের লোকজন গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের কৃষকদের ১০ থেকে ১২ বস্তা করে সার দিচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেছেন, ‘যে সময়ে সারের প্রয়োজন, সেই সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে? প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি। তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেছি।’
চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ বন্ধ করে খোলাবাজারে সার সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সার বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় কৃষক আজিজুল ইসলামের ভাষ্য, ভুট্টার আগাম চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পেলে চাষাবাদ ব্যাহত হবে। তিনি বলেছেন, সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায়, ফলনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের সারা বছর সংসার চলে ভুট্টা চাষের আয়ের ওপর। এ ফসলের ওপর নির্ভর করেই পরিবারের ভরণপোষণ করতে হয়। তাই সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ জানিয়েছেন, সার বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। বিতরণ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রয়োজনে আগামী মাসের বরাদ্দ থেকেও সার দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে ছয়টি ওয়ার্ডে সার বিতরণ চলছে। আগামী দুদিনের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, কালোবাজারে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন মিত্র জানিয়েছেন, কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সার রয়েছে এবং সার কার্ডধারী সব কৃষকই সার পাবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। কৃষকরা তাদের সার কার্ড জমা দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে কার্ডের মাধ্যমে সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




