মুখী কচুতে কৃষকের মুখে হাসি

মুখী কচু
দিনাজপুরের বিরামপুরে এবার মুখী কচুর ভালো ফলন হয়েছে। ফলনের পাশাপাশি ন্যায্য দাম পাওয়ায় খুশি কৃষক। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদেরও। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উৎপাদিত মুখী কচু ট্রাকে করে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিরামপুর নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মোকামে কৃষকদের কাছ থেকে মুখী কচু কেনাবেচা চলছে। বাজার থেকে ৫ থেকে ৬ ট্রাকে করে কচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আকারভেদে প্রতি মণ মুখী কচু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর মুখী কচুর আমদানি ভালো হওয়ায় মোকামে কেনাবেচা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উৎপাদিত কচু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
বিরামপুর নতুন বাজারের ব্যবসায়ী বাবলু মন্ডল বললেন, ‘এবার উপজেলায় মুখী কচুর ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকায় বাজারে বেশি পরিমাণে কচু আসছে। ফলে মোকামে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।’
মুখী কচু কেনায় ব্যস্ত ব্যবসায়ী মেনহাজুল, আসাদুজ্জামান ও বাবলুসহ কয়েকজন জানান, বাজারে কচুর আমদানি ভালো থাকায় নিয়মিত দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো যাচ্ছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলার মুকুন্দপুর গ্রামের কচুচাষি ফজলু মিয়া বলেন, এবার মোকামে কচুর ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। ফলনও ভালো হয়েছে। তাই খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকছে।
ভেলারপাড় গ্রামের কৃষক হেলাল জানান, দুই বিঘা জমিতে বারি মুখী কচু-১ চাষ করেছি। এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্য দামও পাচ্ছি। এ কারণে এলাকায় মুখী কচুর আবাদ বাড়ছে।
কৃষকেরা জানান, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় মুখী কচু চাষে ঝামেলা কম। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে এতে লাভের সুযোগও বেশি। এ কারণে প্রতি বছর এ ফসলের আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কোমল কৃষ্ণ রায় বলেন, ‘মুখী কচুর আবাদে তুলনামূলকভাবে খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। চলতি মৌসুমে বিরামপুর উপজেলায় ১৮৫ হেক্টর জমিতে কচু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকদের আগ্রহের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ উপজেলায় বেশিরভাগ কৃষক বারি মুখী কচু-১ ও মালশিরা জাতের কচু চাষ করছেন। এ বছর এসব জাতের ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষকেরা যদি ভবিষ্যতেও ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পান, তাহলে আগামীতে মুখী কচুর আবাদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’





