বিএনপি কার্যালয় দখলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও নিজের জমি দখলের অভিযোগে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আ. আজিজ মুসুল্লীর সংবাদ সম্মেলন— আগামীর সময়
কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বৈধভাবে কেনা জমি ও বিএনপির দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমির দখল ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি আ. আজিজ মুসুল্লী।
আজ শুক্রবার কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আজিজ মুসুল্লী বলেছেন, ‘লতাচাপলী মৌজার এসএ ১২২৭ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দাগে তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে বৈধ দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেখানে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি দলীয় কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়।’
তিনি অভিযোগ করে জানান, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে বিএনপির দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের ভোগদখলীয় জমিতে অনুমতি ও আইনগত অধিকার ছাড়াই মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করা হয়।’
বিএনপি নেতারা আরও অভিযোগ করেন, জমি রক্ষার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা, হয়রানি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঘটনা ঘটে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ সময় আ. আজিজ মুসুল্লী আরও বললেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধ চাই না। আমরা আইন, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাস করি। বৈধ দলিল, রেকর্ড ও প্রকৃত তথ্য যাচাই করে আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হোক।’
সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদুর রহমান সোহেল, পৌর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুর আলম শেখসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেছেন, ‘ওই জমি আমার নয়। জমিটির মালিক আমার ভাতিজা বেলাল। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মিলন মিয়ার স্ত্রী উর্মির কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছেন। এরপর থেকে বেলাল ওই জমির মালিক হিসেবে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। সুতরাং, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।’






