সাজেক ঘিরে কাজহারা হাজারো মানুষ

সংগৃহীত ছবি
পাঁচ দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। ফলে পর্যটননির্ভর এই এলাকার হাজারো মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। হোটেল-রিসোর্ট মালিক থেকে শুরু করে শ্রমিক— সবাই দিন গুনছেন। অপেক্ষা করছেন অবরোধ উঠে যাওয়ার। মৌসুমের শুরুতেই এই অনিশ্চয়তায় হতাশ শ্রমিক-মালিকরা সমস্যার দ্রুত সমাধান দাবি করলেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ির চেঙ্গী স্কোয়ার মোড়ের পেট্রল পাম্পে কয়েকটি পিকআপ অলস বসে থাকতে দেখা গেল। এগুলো খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যন্ত পর্যটক পরিবহন করে থাকে। এখন কাজ নেই, তাই বসে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিলেন পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের একজন রীতি কিশোর ত্রিপুরা। তিনি বললেন, ‘অবরোধে গাড়ি চলাচল বন্ধ, পর্যটক আসছেন না। এখন অলস সময় কাটাচ্ছি। গাড়ি না চললে আমাদের বেতনও নেই। ধার নিয়ে এখন কোনো রকমে খেয়েপরে চলছি।’
খাগড়াছড়িতে থেকে সাজেক পর্যন্ত পিকআপ, জিপ বা চান্দের গাড়ি, সাফারি জিপ, ডিজেলচালিত থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। পিকআপ ও জিপ পরিচালনা করে দুটি সমিতি। খাগড়াছড়ি জিপ সমিতি ও পার্বত্য যানবাহন সমিতি। দুই সমিতির নেতারা জানালেন, খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যটন এলাকা পর্যন্ত চলাচল করে সব মিলিয়ে অন্তত ৮০০ পিকআপ ও জিপ। এ ছাড়া ডিজেলচালিত থ্রি-হুইলার প্রায় ২০০ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলে শতাধিক।
পার্বত্য যানবাহন সমিতির সভাপতি আয়ুশ কান্তি চাকমা জানালেন, সাজেক সড়কে অবরোধ চলায়, তাদের সমিতির অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশ গাড়ি বসে আছে। গাড়ির সিট পর্যটকদের উপযোগী করে তৈরি করা। ফলে চাইলেও এখন এসব গাড়ি অন্য কাজে ব্যবহার করা যায় না।
একই অবস্থা হোটেল-রিসোর্টেও। খাগড়াছড়ি জেলা সদরে ৩২টি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ হোটেলগুলোর অধিকাংশই এখন খালি। অন্তত ২৫০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয় এসব হোটেলে। অর্ধশতাধিক রেস্তোরাঁতেও নেই গ্রাহক। সেখানকার মালিক-শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপাকে।



