নেত্রকোনা
‘টয়লেটের পিলারে এক রড, খসে পড়ছে প্লাস্টার’

‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টয়লেট— সংগৃহীত
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের আওতায় টয়লেট নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী, অপর্যাপ্ত সিমেন্ট, ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই ও দুর্বল কাঠামোর কারণে উদ্বোধনের আগেই অনেক টয়লেটে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্লাস্টার খসে পড়ছে। টয়লেটগুলো নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টাকা। আর টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে ১৯০টি।
ডেমুরা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টয়লেটের দেয়াল ও ঢালাইয়ের অংশ হাতের চাপেই ভেঙে পড়ছে। নদীর বিটবালু ব্যবহার এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণকাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। অনেক উপকারভোগী বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন বস্তা সিমেন্ট কিনে দিলেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি।
উপকারভোগী রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিজের টাকায় সিমেন্ট কিনে দিতে হয়েছে। এরপরও নির্মাণকাজ সন্তোষজনক হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুজ্জামান কানন বললেন, ‘এলাকার প্রায় সব টয়লেটের কাজই নিম্নমানের হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই অনেকগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা বারবার আপত্তি জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘টয়লেটের পিলারে রডের খাঁচা তৈরির পরিবর্তে কোথাও একটি মাত্র রড ব্যবহার করা হয়েছে। আবার কোথাও জিআই তার দিয়ে দায়সারা কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিম্নমানের কাঠ ও অল্প টিন ব্যবহারের কারণে অনেক টয়লেটের ছাউনি দিয়ে শুরু থেকেই পানি পড়ছে।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি টয়লেটের দরজা ও ছাউনি নির্মাণের জন্য স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিকে মাত্র ৪৫০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এত অল্প বরাদ্দে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকির অভাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় করছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেক উপকারভোগীর বাড়িতে নির্মাণসামগ্রী পর্যন্ত পৌঁছেনি।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বিদ্যুৎ মিয়ার মন্তব্য, ‘আমরা সর্বাবস্থায় কাজের তদারকি করছি। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি যথাযথ তদারকি থেকেই থাকে, তাহলে উদ্বোধনের আগেই কেন টয়লেটগুলোতে ফাটল ধরছে এবং প্লাস্টার খসে পড়ছে। তাদের ভাষ্য, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রকৃত উপকারভোগীরাই। তাই দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।





