মৌলভীবাজারের সড়কে ছোট ছোট গর্তে বড় ভোগান্তি

একটু একটু করে তৈরি হওয়া গর্তগুলোই এখন বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলভীবাজারের গ্রামীণ সড়কে। কোথাও উঠে গেছে পিচ, বেরিয়ে এসেছে ইট-সুরকি; কোথাও ছোট গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। সময়ের সঙ্গে এসব গর্ত বড় হয়ে যানবাহন চলাচল কঠিন করে তুলছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক এমন বেহাল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য বলছে, মৌলভীবাজারে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক মিলিয়ে ৫ হাজার ১৪৪ কিলোমিটার সড়ক এলজিইডির আওতাধীন। এর মধ্যে পাকা ২ হাজার ১৭২ কিলোমিটার এবং কাঁচা সড়ক ২ হাজার ৯৭৩ কিলোমিটার। বন্যাসহ বিভিন্ন কারণে পাকা সড়কের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম, শুকুর আলী ও মেরাজ আহমদের ভাষায়, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব সড়কে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সেটি কতটা গভীর, তা বোঝা যায় না। ফলে সামান্য অসতর্কতায়ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়ক সহসাই সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে এলজিইডি। মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক আহমদের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে কিছু সড়ক মেরামত করা হয়েছে। আরও কিছুর কাজ প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়কে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি গত বছরের হিসাবেও স্পষ্ট। নির্বাহী প্রকৌশলীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সড়ক মেরামতের জন্য ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। ওই অর্থে ১১২ কিলোমিটার সড়ক এবং প্রায় ২৫ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত করা হয়েছে। চলতি বছরও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। এ বছর সড়ক মেরামতের জন্য ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে গত বছরের চলমান কিছু কাজের জন্য আরও ২৭ কোটি টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি সময়ে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা দিয়ে ৯০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এলজিইডি।
ফারুক আহমদ জানিয়েছেন, সড়ক মেরামত ও উন্নয়ন কাজে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য ১০ কোটি টাকা করে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের উন্নয়নের জন্য প্রতিটি উপজেলায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য ৫০ কোটি টাকার একটি স্কিমও প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।



