ঠাকুরগাঁও
প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

রায় ঘোষণা শেষে আসামিকে কারাগারে নেওয়া হয়। ছবি: আগামীর সময়
ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে। জরিমানার টাকা ওই শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. আব্দুল মমিন। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল থানার ভাবনাবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, মামলার অন্য আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস দেন।
আগামীর সময়কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল হক।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ওই বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে বাড়িতে রেখে তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন তার মেয়ের মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করছে। এ সময় মমিনকে আটকানোর চেষ্টা করা হলে তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে মায়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা ২৩ অক্টোবর রানীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এ রায় দিলেন আদালত।
অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেছেন, আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এক অসহায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ ১১ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল।





