ঈদের আগের দিন কচুয়া বাজারে আগুন, পুড়ল ৮ দোকান
- অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি

ছবিঃ আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তের ঠিক আগেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাগেরহাটের কচুয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে বাজারের ব্রিজ সংলগ্ন মঘিয়া এলাকায় লাগা আগুনে অন্তত ৮টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও ৫ থেকে ৭টি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কচুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাফর মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। বাজারের পাহারাদার আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সেলুন ও লন্ড্রি, বড় মুদি দোকান, একাধিক চায়ের দোকান, সার ও কীটনাশকের দোকান, ভ্যারাইটিজ স্টোর এবং মিষ্টি তৈরির জালঘর।
ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক আব্দুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে দোকানে বিপুল পরিমাণ মালামাল তুলেছিলাম। আগুনে সব পুড়ে গেছে। আমি এখন নিঃস্ব।
মুদি ব্যবসায়ী জিয়া বলেন, চাঁদ রাত আমাদের সবচেয়ে বড় বিক্রির সময়। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে মাল তুলেছিলাম। এখন সব শেষ—চারদিকে অন্ধকার দেখছি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জাফর মোল্লা জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, স্থানীয় বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা।

