কেশবপুরে সড়ক ভেড়ি করে মাছের ঘের, বাড়ছে জলাবদ্ধতা

ছবি: আগামীর সময়
যশোরের কেশবপুরে মৎস্যঘের ব্যবসায়ীরা শতাধিক সরকারি সড়ককে ঘেরের ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়কগুলো। একই সঙ্গে সরকারি খালের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে ঘের নির্মাণ করায় উপজেলা জুড়ে স্থায়ী রূপ নিয়েছে জলাবদ্ধতা। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিলাঞ্চলের হাজারো দরিদ্র পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে প্রায় দুই হাজার বিল ও জলাশয়। এর মধ্যে বিল বলদহালি, টেপুর বিল, গরালিয়া বিল, পদ্মবিল, ঘোচমারা বিল, কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিল, হাজোয়ার বিল, খুকশিয়া বিল, বোয়ালিয়া বিল ও বিষ্ণুপুর বিল উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আশির দশকে এসব বিলে মাছ শিকার করে হাজারো জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকায় ধান, পাট, মসুর, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হতো। নব্বইয়ের দশক থেকে প্রভাবশালী মহলের উদ্যোগে বিল, খাল ও নদীর অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে গড়ে তোলা শুরু হয় মাছের ঘের। এরপর ধীরে ধীরে সরকারি সড়ককে ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার এবং খালের প্রবাহ বন্ধ করে সম্প্রসারণ করা হয় ঘের।
এর ফলে মাছ শিকারের সুযোগ হারিয়েছে বিলনির্ভর জেলে ও নিম্নআয়ের মানুষেরা। অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।
স্থানীয়দের দাবি, নদীতে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় নদীগুলো ভরাট হচ্ছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কৃষিকাজ।
জানা গেছে, উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার মাছের ঘেরের মধ্যে অনেক রাস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি সড়ক ভেড়ি হিসেবে। এতে প্রধান সড়কসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক পাকা ও ইটের সোলিং সড়ক। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক, কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর-ভেরচী সড়ক, কেশবপুর-ফতেপুর সড়ক, কলাগাছী-চুকনগর সড়ক, মঙ্গলকোট-হিজলডাঙ্গা সড়ক, মঙ্গলকোট-পাঁচপোতা সড়ক, বাকাবর্শী-গড়ভাঙ্গা সড়ক, মজিদপুর-লক্ষ্মীনাথকাটি সড়ক, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়ক, ত্রিমোহিনী-সাগরদাঁড়ি সড়ক, মনোহরনগর-বাকডাঙ্গা সড়ক, ব্যাসডাঙ্গা-ইমাননগর সড়ক, গোলাঘাটা বাজার-মঙ্গলকোট সড়ক, শ্রীফলা-মঙ্গলকোট সড়ক এবং সাবদিয়া-সরফাবাদ সড়ক এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ফকির রাস্তা এলাকা থেকে কেশবপুর বাস-ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত অংশকে ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ঘের। কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়কসহ অন্তত ১০টি পাকা সড়ক সরাসরি পরিণত হয়েছে ঘেরের অংশে। এ ছাড়া গোলাঘাটা বাজার-মঙ্গলকোট, শ্রীফলা-মঙ্গলকোট, মঙ্গলকোট-হিজলডাঙ্গা, মঙ্গলকোট-পাঁচপোতা এবং ত্রিমোহিনী-সাগরদাঁড়ি সড়কসহ আরও বহু সড়ক ব্যবহৃত হচ্ছে ঘেরের ভেড়ি হিসেবে।
উপজেলা প্রকৌশলী এম এ জাসির বলেছেন, ঘেরমালিকরা অবৈধভাবে সড়ককে ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তার ঢাল, শোল্ডার ও পিচের অংশ। সরকারি বিধি অনুযায়ী সড়ক থেকে আলাদা ভেড়ি নির্মাণ করে মাছ চাষের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, কেশবপুরে বর্তমানে ৪ হাজার ৬৫৮টি মাছের ঘের এবং ৬ হাজার ৬৪০টি পুকুর রয়েছে। ঘের স্থাপনের ক্ষেত্রে ভবদহ এলাকার জন্য প্রণীত নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে করা হয়েছে মাইকিংও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেছেন, সরকারি নীতিমালা অমান্য করে মৎস্যঘের স্থাপন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




