অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লায় মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে।
আজ রবিবার বেলা ১১টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা হয়। জানাজায় দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেছেন, ‘আমার একটাই ছেলে; ও কুমিল্লার আবহাওয়া, কুমিল্লার আকাশের নিচে সকলের ভালোবাসা ও স্নেহে বড় হয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশতবাসী করেন।’
জানাজা শেষে ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে মহাসড়কে আসেন শত শত শিক্ষার্থী। এরপর তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘আমরা আজ এখানে এসেছি অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে। কুমিল্লা শহরে কোনো মানুষ নিরাপদ না। আমরা কুমিল্লা শহরের নিরাপত্তার দাবিতে এখানে এসেছি।’
অপর এক শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ কুমিল্লা চাই। এখানে কোনো প্রকার সন্ত্রাস, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং চাই না।’
কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আনিসুল হক আগামীর সময়কে বলেছেন, ছাত্ররা কিছুক্ষণ আগে রাস্তা অবরোধ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম গত শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর অপ্রতিম পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খায়। পরে বন্ধুদের সঙ্গে আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বাইরে যাওয়ার কথা বলে। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সম্ভবত আইফোনটিই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছে।’
এই শিশু খুনে জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, আটকরা হলো- তুহিন, আনাস ও ফাহিম।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানালেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তিনজনসহ মোট চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।





