৩শ বছরের ঐতিহ্য, পাঁচগাঁওয়ে লালবর্ণের দুর্গাপ্রতিমায় পূজা

সারা দেশে প্রচলিত রীতিতে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হলেও মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁওয়ে রয়েছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। সেখানে সাধক সর্বানন্দ দাস আরাধিত শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরে লালবর্ণের দুর্গাপ্রতিমায় পূজা করা হয়। প্রায় ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই পূজা দেখতে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসেন।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত লোককাহিনি অনুযায়ী, সাধক সর্বানন্দ দাসের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সূত্র ধরেই পাঁচগাঁওয়ে এই পূজার প্রচলন হয়। কথিত আছে, দেবীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে লালবর্ণের প্রতিমায় পূজা শুরু করা হয়েছিল। পূজার সময় প্রতিমাকে পরানো হয় বিশেষ কিছু স্বর্ণালংকার। এসব অলংকার দেবীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে পরিচিত।
পূজার পরিচালক সঞ্জয় দাস জানান, তিনি সাধক সর্বানন্দ দাসের ষষ্ঠ উত্তরপুরুষ। তাঁদের পরিবারে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পূজা হয়ে আসছে। এটি মূলত পারিবারিক পূজা হলেও প্রতিবছর পূজাকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।
তিনি জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূজার আয়োজন ব্যাহত হয়েছিল। ওই বছর নিয়মিত প্রতিমাপূজার পরিবর্তে ঘটপূজা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আবারও ঐতিহ্যবাহী রীতিতে পূজা শুরু হয়।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলায় এবার সর্বজনীন ৮৯৮টি ও ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি ও শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি মণ্ডপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।




