‘সব শেষ, কী নিয়ে বাঁচব আমরা’

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন
কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একমাত্র ছেলে, মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন জিয়াদুল কবির ও তার স্ত্রী কাজল রেখা। একই ঘটনায় কাজল রেখার দুই বোনের তিন মেয়েও প্রাণ হারিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে জিয়াদুল কবির বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম, একমাত্র মেয়ে ফারিহা কবির ও নাতি ফাইজান নূর উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছে। আমার এখন বেঁচে থেকে লাভ কী? কী নিয়ে আমি বাঁচব? সব তো আমার শেষ হয়ে গেছে।’
জিয়াদুল কবির বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে তার মেয়ের জামাতা নূর আলম চুয়াডাঙ্গা থেকে স্ত্রী ফারিহা কবির (৩২), ছেলে নাসির সিয়াম (২৬), সন্তান ফাইজান নূর (৬) এবং জিয়াদুল কবিরের শ্যালিকার পরিবারের আরও ছয়জনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের ছয়জন মারা যান।
জিয়াদুল কবিরের একমাত্র ছেলে নাসির সিয়াম আমতলীর একটি বেসরকারি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চীনা ভাষা শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তরের শেষ বর্ষে পড়ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে যান নাসির।
এদিকে শুক্রবার সকালে জরুরি কাজ থাকায় স্ত্রী ফারিহা কবির, ছেলে ফাইজান নূর ও শ্যালক নাসির সিয়ামকে কক্সবাজারে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে যান নূর আলম। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হারান।
অগ্নিকাণ্ডে জিয়াদুল কবিরের দুই ভায়রার তিন মেয়েও মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মালিহা (২৮) এ বছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। নাভিলা এ বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।
তারা ঢাকার বনশ্রী এলাকার মুনসুর রশীদের মেয়ে। অন্যদিকে আলভী (২৬) জিয়াদুল কবিরের আরেক ভায়রা সেলিম মিয়ার মেয়ে। তিনি ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল রেখা বলেন, ‘ছেলে, মেয়ে, নাতি সব শেষ অইয়া গেছে। আমরা আর দুনিয়ায় বাইচ্যা থাইক্যা কী করমু? ও আল্লাহ, আমাদেরও এখন নিয়া যাও।’
স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালককে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নূর আলমও। কান্না করতে করতে তিনি বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে, শ্যালক গ্যাছে। আল্লাহ, মোরেও এহন বাঁচাইয়া রাখছো কেন?’
একই ঘটনায় দুই মেয়েকে হারিয়েছেন মুনসুর রশীদ ও তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রীনা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা বলেন, ‘আমার জান নাভিলা ও মালিহা চলে গেছে। ও আল্লাহ, আমাদেরও কেন মৃত্যু দাও না? আমাদেরও ওদের সঙ্গে নিয়ে যাও।’




