এবার ফেসবুক পোস্টে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা ছাত্রদলের সাবেক নেতা নাঈমের

নাঈম
রাজিব আহমেদের পর এবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা নাইম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতিচারণা করে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
নাইম শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের জিয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নাইম জানান, পারিবারিকভাবেই ছোটবেলা থেকে বিএনপির রাজনীতির প্রতি তার দুর্বলতা ছিল। এসএসসি পাসের পর থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন ও সহ-সভাপতি আমানুল্লাহ আপন এর মাধ্যমে বিএনপির অনলাইনভিত্তিক সংগঠন জিয়া সাইবার ফোর্সের শেরপুর জেলা কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। পরে ২০২১ সালে শেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণা করে নাইম লেখেন, দীর্ঘ পথচলায় বহু মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, যাদের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, রাজপথের দিনগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও একে অপরের প্রতি প্রতিহিংসা কিংবা অভিযোগ ছিল না।
পোস্টে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির সরকার গঠনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির দুঃসময়ে ও দেশের ক্রান্তিলগ্নে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারাকে নিজের বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন নাইম।
তবে রাজনীতি ছাড়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা সাংগঠনিক অসন্তোষের কথা পোস্টে উল্লেখ করেননি তিনি। নিজের সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নাইম। মানুষ মাত্রই ভুল করে উল্লেখ করে নিজের ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নাইম লেখেন, আজ থেকে আমি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানলাম। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক রাজিব আহমেদও ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরপর দুই সাবেক ছাত্রনেতার এমন ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।





