জনপ্রতিনিধিরা ভেতরে, বাইরে থেকে দেড়শ বছরের পুরনো হলে আগুন

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের লিমোজ শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত বিক্ষোভের পর সহিংসতার ঘটনায় পুরনো ঐতিহাসিক সিটি হলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ১৮৮৩ সালে উদ্বোধন করা প্রায় দেড়শ বছরের ভবনটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘটনাটি শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভের অংশ হিসেবে লিমোজে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। বিক্ষোভের শেষদিকে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি সিটি হলের দিকে যায়। তারা ভবনের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগুন দ্রুত ভবনের একটি অংশ থেকে ছাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনে সিটি হলের ছাদ ধসে পড়ে এবং ভবনের ঐতিহাসিক স্থাপত্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মেয়র ও হট-ভিয়েন প্রদেশের প্রিফেক্ট ভবনটিকে ‘বড় অংশে হারিয়ে গেছে’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভবনটির একটি অংশ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষিত ছিল।
ঘটনার সময় সিটি হলে কর্মী, পৌর পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন। আগুন লাগার পর তারা ভবন থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় সিটি হলের ভেতরে থাকা কেউ আহত হননি।
এই ঘটনার পর শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দেয় গভীর হতাশা। ঐতিহাসিক ভবনটি পুড়তে দেখে অনেকেই ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্থানীয় এক কর্মীকে কাঁদতে দেখা যায়। শহরটির মেয়র গুয়িয়োম গেরাঁ ঘটনাটিকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন।
মেয়র বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার আছে এবং মানুষের ক্ষোভের কথা শোনা উচিত। কিন্তু কোনো মতবিরোধ বা দাবি কখনোই সরকারি সম্পদ ধ্বংসের ন্যায্যতা হতে পারে না।
লিমোজে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের কিছু দোকানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
লিমোজের সিটি হলটি ১৮৭৯ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ১৮৮৩ সালের ১৪ জুলাই উদ্বোধন করা হয়। ভবনটির নকশায় প্যারিসের সিটি হলের স্থাপত্যের প্রভাব রয়েছে।
ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঐতিহাসিক ভবনটির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এটিকে লিমোজের জন্য বড় ধরনের ঐতিহ্যগত ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : কোয়েস্ট ফ্রান্স





