এবার মিয়ানমার থেকে থানচি সীমান্ত পথে ৪৭ খুমির অনুপ্রবেশ

সংগৃহীত ছবি
মিয়ানমারের সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তাড়া খেয়ে ৪৭ জন খুমি সম্প্রদায়ের নাগরিক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন। বান্দরবানের থানচি সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর তাদের আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্র বলেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৬৯ ও ৭০ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে তারা থানচি উপজেলায় প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অনুপ্রবেশকারী ৪৭ জনকে আটক করেন।
আটকদের থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়নের হ্নৈকু খুমি পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। বলিপাড়া জোনের অধীন ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ছোট মধু বিওপির হাবিলদার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও কয়েক শিশু রয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আজ শুক্রবার বিকালে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৭০ ও ৭১-এর মধ্যবর্তী একটি সুবিধাজনক পয়েন্ট দিয়ে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর (পুশব্যাক) প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, অনুপ্রবেশকারীরা মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতুয়া টাউনশিপের খানচালাং পাড়া ও সাম্পিং পাড়ার বাসিন্দা। সম্প্রতি ওই এলাকায় আরাকান আর্মির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় খুমি সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় প্রথম ধাপে ওই ৪৭ জন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
সূত্রটি আরও বলছে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি না থাকলে মিয়ানমার থেকে আরও বিপুলসংখ্যক চিন রাজ্যের নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন।
এদিকে বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৬৮ থেকে ৭২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকা অত্যন্ত দুর্গম। সীমান্তের দুপাশ জুড়েই রয়েছে খাড়া পাহাড় ও ঘন জঙ্গল। ফলে বিস্তীর্ণ এই এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো বিজিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে খুমি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।




