নওগাঁ
ঈদের ৪ দিন পর ত্রাণ বিতরণ, সমালোচনার মুখে এমপি

নওগাঁর পত্নীতলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণের নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দ দেওয়া এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে ঈদের চার দিন পর। উৎসবের আগে এই সহায়তা না পাওয়ায় উপজেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিলম্বের কারণ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১ জুন) সকালে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে এই অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।
উল্লেখ্য, তিনি এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এই আসনের জন্য মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পত্নীতলা উপজেলার জন্য ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ধামইরহাট উপজেলার জন্য ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। ঈদের আগেই এই অর্থ বিতরণের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু পত্নীতলায় তা বিতরণ করা হয়েছে ঈদের চার দিন পর। অন্যদিকে ধামইরহাট উপজেলায় আজ মঙ্গলবার এই অর্থ বিতরণের কথা রয়েছে।
অর্থ বিতরণে বিলম্বের বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের এই বরাদ্দ স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল। ঈদের আগেই সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে সংসদ সদস্য ঈদের পরে এটি বিতরণ করতে চেয়েছিলেন। এই কারণে অনুষ্ঠানটি ঈদের পর আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের আগে সংসদ সদস্যের সময় ও সুযোগ না হওয়ায় তিনি এভাবে কর্মসূচি নির্ধারণ করেন বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
তবে বিলম্বের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রাকিব।
তার ভাষ্য, টাকাগুলো প্রথমে জেলা প্রশাসনের কাছে আসে। পরে দুই উপজেলার কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল ঈদের আগেই অর্থ বিতরণ করার। কিন্তু সুবিধাভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত হয় ঈদের ছুটি শুরুর মাত্র এক দিন আগে।
এছাড়া ওই সময় দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাই ছুটিতে ছিলেন। তাদের উপস্থিতি ছাড়া নগদ অর্থ বিতরণ করা সম্ভব ছিল না। এই ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রাকিব।




