রেস্তোরাঁয় খাবারের বিল নিয়ে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণে আহত পুলিশ

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহী মহানগরীতে খাবারের বিল ও মান নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে মহানগরীর বিনোদপুর বাজার এলাকায় ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁয়।
আহত কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দীন নগরীর কাজলা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। ককটেলের আঘাতে তার বাম পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতে রমজান নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে বাংলা টিফিন রেস্তোরাঁয় নানরুটির একটি পার্সেল নিতে যান। এ সময় পার্সেল দিতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে জানালে রেস্তোরাঁর এক কর্মচারীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, রেস্তোরাঁর এক কর্মচারী চাপাতি নিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হন। পরে রমজান তার স্ত্রীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান।
এর কিছুক্ষণ পর রমজানের সমর্থক পরিচয়ে কয়েকজন যুবক বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ নামের দুটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মারামারি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কনস্টেবল ফয়েজ উদ্দীন আহত হন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমজান। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি স্ত্রীকে নিয়ে রেস্তোরাঁ থেকে বাসায় ফিরে আসেন। রেস্তোরাঁয় হামলা কিংবা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তার দাবি, তৃতীয় কোনো পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মতিহার থানার ওসি মোহাম্মাদ গোলাম কবির বলেছেন, রমজানের লোকজন রেস্তোরাঁয় গিয়ে ভাঙচুর ও মারামারিতে জড়িয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গেলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




