বাউফল
স্বাধীনতার ৫৭ বছরেও নেই পাকা সড়ক

স্বাধীনতার ৫৭ বছরেও হয়নি কোনো পাকা সড়ক। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।ছবি : আগামীর সময়
পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরিপাশা ও তালতলী বাজার এলাকায় স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি পাকা সড়ক। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত পাকাকরণ করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভরিপাশা ও তালতলী এলাকায় তিনটি সরকারি ও চারটি এমপিওভুক্তসহ মোট সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তালতলী-ভরিপাশা দাখিল মাদ্রাসা, ১৪৭ নম্বর তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভরিপাশা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, সৈয়দ দাখিল মাদ্রাসা, পূর্ব ভরিপাশা ২৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভূইয়ার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়া এলাকায় একটি খেয়াঘাট ও একটি লঞ্চঘাট রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে কাঁচা সড়ক কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় দুর্ঘটনায় মানুষের হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। যানবাহন চলাচল না করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
১৪৭ নম্বর তালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিক ফয়সাল বলেছেন, ‘আমাদের স্কুলে আসার মতো ভালো রাস্তা নেই। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে খুব সমস্যা হয়। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারে না। একটি শিশু দুই দিন স্কুলে এলে তিন দিন আসতে পারে না। আবহাওয়া খারাপ হলে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয় না।‘
তালতলী এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর মিঠুন বললেন, ‘পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক ইঞ্চি রাস্তা পাকা হয়নি। আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এখানে সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানকার মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে বড় হয়েছে, কিন্তু আজও রাস্তার উন্নয়ন হয়নি।‘
আরেক বাসিন্দা শরিউতুল্লাহর ভাষ্য, ‘কেশবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড একটি পরিত্যক্ত এলাকার মতো। মানুষ ভোগান্তিতে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। আধুনিক যুগে এসেও আমরা উন্নয়নের ছোঁয়া পাইনি।‘
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেছেন, ‘এলজিইডির আইডিভুক্ত না থাকায় সড়কগুলো এখনো পাকাকরণ করা সম্ভব হয়নি। খুব দ্রুত সড়কগুলো গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পাঠানো হবে। আইডিভুক্ত হওয়ার পর জেলা এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘





