সাতক্ষীরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১১

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর ও থানার আশপাশের এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, আওয়ামী লীগের ‘নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অগ্নিসন্ত্রাসের’ প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই দিন বিকাল পাঁচটায় উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বেও পৃথক কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।
বিকালে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে কালিগঞ্জ থানার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে মিছিলটি এগিয়ে গেলে অপর একটি পক্ষের মিছিলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান ও শেখ নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়। অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসেন। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে রোকনুজ্জামান রোকন সমর্থিত সবুজ ও ছোটনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে তাদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপর পক্ষের আল ইমরান হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া বিপুল হোসেন ও আজমির হোসেনসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ হাসানুর রহমান অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় রোকনুজ্জামান রোকনের সমর্থকেরা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
অন্যদিকে রোকনুজ্জামান রোকনের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় শেখ হাসানুর রহমানের সমর্থকেরা তাদের ওপর হামলা চালান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ এবাদুল ইসলাম বললেন, কয়েক দিন আগে রোকনুজ্জামান উপজেলা বিএনপির মূল ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেন। তাকে কৃষকদলের আহ্বায়ক হিসেবে পৃথক কর্মসূচি না করে মূল দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ নিয়ে উত্তেজনার পর মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বাবু জানালেন, মূল সংগঠন ও কৃষকদলের পৃথক কর্মসূচির একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কালিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ঘোষ বলেছেন, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।



