জামালপুরের কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকেন না স্বাস্থ্যকর্মীরা
- জামালপুরে চারটি বন্ধ, ১২টিতে নেই সিএইচসিপি

জামালপুরে স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতি ও ক্লিনিক বন্ধ থাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। জেলার ৩০৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কয়েকটিতে নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের। কোথাও নির্ধারিত সময়ে কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও আবার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ক্লিনিক। ১২টিতে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিএইচসিপি) পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া অবকাঠামোগত সমস্যায় বন্ধ রয়েছে আরও চারটি ক্লিনিক।
জামালপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, জামালপুর সদরে ৬৩টি, ইসলামপুরে ৫৪, সরিষাবাড়ীতে ৪৫, মেলান্দহে ৪২, মাদারগঞ্জে ৩৭, দেওয়ানগঞ্জে ৩২ এবং বকশীগঞ্জে ৩০টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতিদের সেবা, শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরামর্শ এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার কথা। তবে কয়েকটি ক্লিনিক ঘুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের অনুপস্থিতি ও নির্ধারিত সময়ের আগে ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের বাগবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে প্রধান ফটকে তালা দেখা যায়। ক্লিনিকের সিএইচসিপি শেফালী বেগম ব্যাংকের কাজে বাইরে গেছেন বলে নোটিস বোর্ডে লেখা ছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ক্লিনিকে আসেন না এবং এলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। তাদের দাবি, সেদিন সকালে ক্লিনিকে এসে ওষুধ বিতরণের পর দুপুর ১২টার দিকে চলে যান তিনি।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে শেফালী বেগম দাবি করেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে ছুটি নিয়ে ব্যাংকের কাজে গিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, দুপুরে ক্লিনিক থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি নোটিস বোর্ডে লিখে রেখেছিলেন। ব্যাংকের কাজ শেষ হয় বেলা আড়াইটার দিকে। তখন আর ক্লিনিকে ফেরার প্রয়োজন মনে করেননি তিনি।
একই উপজেলার চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী কমিউনিটি ক্লিনিকেও দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে ছিলেন না সিএইচসিপি শ্যামলী আক্তার। তবে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশীর ভাষ্য, বিউটি খাতুনের বেতন প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবায় অনিয়ম ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন আজিজুল হক। তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে সিএইচসিপিদের অনুপস্থিতির বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।’



