তাজমিন হত্যা
কুমিল্লায় নেওয়া হয়নি রাজুকে, ৫৪ ধারায় কারাগারে

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার তদন্তে আলোচনায় আসা কক্সবাজারের হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে কুমিল্লায় নেওয়া হয়নি। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার বিকেলে কক্সবাজার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত তাজমিনের পরিবারের সদস্যরা চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে কক্সবাজারে মামলা করতে পারেন বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
সোমবার রাত ৯টার দিকে আগামীর সময়কে মুঠোফোনে এ তথ্য জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. অহিদুর রহমান।
এর আগে রবিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোনসংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে পুলিশ। ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিনকে বাড়ি ছাড়তে প্ররোচিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রেক্ষাপট তৈরিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। সোমবার দিনভর রাজুকে কুমিল্লা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের খবর ছড়ালেও কুমিল্লা পুলিশ তাকে সেখানে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে কক্সবাজার পুলিশ জানায়, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর। যেহেতু কুমিল্লা পুলিশ ওই কিশোরীকে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে এবং গ্রেপ্তার আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই কক্সবাজারের হোটেলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আটক রাজুর কোনো অনৈতিক কাজ হয়ে থাকলে ওই কিশোরীর পরিবার ইচ্ছা করলে সংঘটিত অপরাধের জন্য কক্সবাজার থানায় মামলা করতে পারে। বিষয়টি পরবর্তী সময়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজু কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন। ফেসবুকে তাজমিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাজুর ডাকে সাড়া দিয়ে ওই কিশোরী বাড়ি থেকে কক্সবাজারে যায়। সেখানে একটি হোটেলে তারা ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে অবস্থান করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
গত শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, সিএনজিচালক সুমন একাই ওই কিশোরীকে একটি কৃষিজমিতে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করেন। এরপর তার মুঠোফোন নিয়ে অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়। পরে শনিবার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।
নিহত তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় রেসকোর্স এলাকায় থাকত তাজমিন। নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী সে।




