বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা
কচুয়ায় আদম বেপারির খপ্পরে সর্বস্বান্ত এক গ্রাম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আদম বেপারির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. হুমায়ুন গাজী মালদ্বীপ পাঠানোর নাম করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিলেও কাউকে বিদেশ পাঠাতে পারেননি। উল্টো টাকা ফেরত না দিয়ে বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হুমায়ুন উপজেলার দারাশাহী তুলপাই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে মেঘদাইর গ্রামের টং দোকানদার ইয়াছিন মিয়ার ছেলে শাকিবুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দুই লাখ টাকা নেন হুমায়ুন। ইয়াছিন মিয়া এনজিও থেকে ঋণ ও সুদে টাকা এনে এই অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর ভিসা ও টিকিট হয়ে গেছে এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়লে একই গ্রামের নয়ন হোসেন, আব্দুল্লাহ ও মঞ্জির হোসেনসহ আরও অনেকে বিদেশ যাওয়ার আশায় তাকে টাকা দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বারবার টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও হুমায়ুন তা রক্ষা করেননি। পরবর্তীকালে গ্রাম্য সালিশে তিনশ টাকার স্ট্যাম্পে তিন কিস্তিতে টাকা ফেরতের লিখিত সিদ্ধান্ত হলেও তিনি সেটি কার্যকর করেননি। এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগীরা কচুয়া থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
হুমায়ুন গাজী তার ফেসবুক আইডি থেকে গ্রামের সালিশদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নামে আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে মানহানি করছেন বলেও ভুক্তভোগীরা উল্লেখ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মো. মোর্শেদুল আলম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালতে মামলা হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেল হাজতে থাকাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনজীবীর মাধ্যমে আপোষের প্রস্তাব দেন। এরপর আংশিক টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা না দিয়েই গোপনে আবার মালদ্বীপে পাড়ি জমান হুমায়ুন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন গাজী বললেন, বিদেশ পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়েছিলাম। বেশিরভাগ টাকা ফেরত দিয়েছি, সামান্য কিছু বাকি আছে। আমাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।
বর্তমানে পুরো গ্রাম যেন এই এক প্রতারকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে হস্তক্ষেপ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।




