টাকা না দেওয়ায় দাখিল পরীক্ষার্থীর ওএমআর বদলে ফেল করানোর অভিযোগ

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড
সব বিষয়ে এ প্লাস পেলেও জীববিজ্ঞানে ফেল করেছেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার দাখিল পরীক্ষার্থী মো. হাবিবুল বাশার মুবিন।
ফল পুনর্নিরীক্ষণ করেও পরিবর্তন না হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর ওএমআর শিট যাচাই করে গরমিল পাওয়ার কথা জানিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বোর্ড।
মুবিনের অভিযোগ, পরীক্ষার সময় টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তার ওএমআর শিট বদলে তাকে ফেল করানো হয়েছে।
মুবিন গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এ বছর গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।
গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর দেখেন, অন্য সব বিষয়ে এ প্লাস পেলেও জীববিজ্ঞানে তিনি অকৃতকার্য। ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন। তাতেও ফল পরিবর্তন না হওয়ায় ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের পর বোর্ডে মুবিনের ওএমআর শিট যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৮ ও ১৩ ধারায়।
মামলাটি করেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. মোশারফ হুসেন।
মামলার আসামিরা হলেন গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও দাখিল পরীক্ষা-২০২৬-এর সহকারী কেন্দ্র সচিব মো. আব্দুল বাকী ওরফে লিটন, সাউদপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার মো. রোকনুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. অলিউল্লাহ এবং ধনতোলা বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় হাজিরা শিটে মুবিনের বহুনির্বাচনি ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ছিল ২৫০০৫৮৬০২০। তবে বোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ২৫০১৫৭৫১৫৩। হাজিরা শিটে থাকা ওএমআর শিটের স্বাক্ষরের সঙ্গেও বোর্ডে জমা দেওয়া ওএমআর শিটের স্বাক্ষরের গরমিল পাওয়ার কথা মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুবিনের দাবি, গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো ভালো করার বিনিময়ে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ আব্দুল বাকীকে কত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে তিনি ‘খুশি করার মতো টাকা’ আনতে বলেন বলে দাবি করেন মুবিন।
পরীক্ষার কেন্দ্র ওই মাদ্রাসায় পেতে চয়েস দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
মুবিন জানায়, টাকা দিতে পারবেন না বলে জানালে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ২৫টি এমসিকিউ দাগিয়েছিলাম। বোর্ডে দেখানো ওএমআরে সর্বোচ্চ ১২টি দাগানো ছিল। এর মধ্যে তিনটিতে টিক দেওয়া ছিল। লেখাগুলো ও স্বাক্ষরও আমার নয়। পরে ওএমআর ও রেজিস্টারের নম্বরেও গরমিল পাই।’
মুবিন আরও জানায়, বোর্ডের কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কমিটি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হতে পারে।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, গত ২০ মে পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। মুবিন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আব্দুল বাকী ওরফে লিটনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তার ওএমআর শিট পরিবর্তন করে অন্য একটি ওএমআর শিট বোর্ডে পাঠানো হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হুদা বললেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। এমন অন্যায়ের কোনো ক্ষমা হয় না। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
মামলার বাদী বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. মোশারফ হুসেন বললেন, ‘বোর্ডের লিখিত আদেশের কারণে থানায় মামলা করেছি। বোর্ডে পাঠানো কাগজপত্র দেখে মনে হয়েছে, শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তদন্তে যা পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলা হয়েছে। এখন তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’



