অনিয়মে চিকিৎসকদের টার্মিনেশন-সাসপেনশনের হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ভেদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে কথা বলছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন— সংগৃহীত
দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়ম করলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে টার্মিনেশন ও সাসপেনশনের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ শনিবার দুপুরে পূর্বঘোষণা ছাড়াই শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, রোগীদের উপস্থিতি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব পালনসহ সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এরপরও যদি অনিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে টার্মিনেশন অথবা সাসপেনশন করতেই হবে। আমরা এখন অনেক কঠোর পদক্ষেপ নেব। যতদিন নরম থাকার প্রয়োজন ছিল, ততদিন ছিলাম। এখন আর নরম থাকার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বললেন, ‘বর্তমান সময়ের চেয়ে আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসবে না। এই সরকার ব্যর্থ হলে এ দেশে কেউ বাস করতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই সময়ে যদি আমরা আমাদের কমিটমেন্ট বাস্তবায়নে ব্যর্থ হই, তাহলে শুধু আমরাই নয়, আপনারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই সবাই বাড়িতে না থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করুন।’
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জনগণের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের সামনে অবস্থিত দুটি বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র না থাকায় ক্লিনিক দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি অফিস চলাকালে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।





