মতলব উত্তর
পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শতাধিক পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম লুধুয়া গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য আশপাশের খাল-পুকুরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহার ও পুকুরে মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি দুর্গন্ধের কারণে একটি মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধও ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। খালের পানিতে বর্জ্য মিশে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পুকুরে বর্জ্য পড়ায় মাছ চাষ করতে পারছেন না পুকুরমালিকরা। দুর্গন্ধের কারণে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও স্বস্তি মিলছে না। এতে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
ভুক্তভোগী নুরে আলম বেপারী জানান, দুর্গন্ধের কারণে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, বমিভাব ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। দিনের পর দিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকায় পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় নুর নবী মুন্সি, শাহিদা বেগম, শামসুন্নাহারসহ বেশ কিছু পরিবারের সদস্যরা জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনায় তাদের আপত্তি নেই। তবে খামারের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। খাল-পুকুরে বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত দিনে ফার্ম কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত হননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মোহাম্মদ মাহিন হোসাইন। তিনি জানান, আমি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আমার খামারটি স্থাপন করেছি। আমার খামার থেকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন করে বিভিন্ন বাড়িতেও সরবরাহ করছি। কয়েক দিন আগেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামার পরিদর্শন করে গেছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, আমি মাহিনের পোল্ট্রি ফার্মে গিয়ে দেখে এসেছি। বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পরিবেশ দূষণের বিষয়টি আমাদের দপ্তরের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এলে আমরা বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত শুনানিতে ফার্ম কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




