‘দুর্নীতির রাজা’ অধ্যক্ষ হাসান
- ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসা

অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান
দুই দশক ধরে ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান। এই সময়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, নির্মাণকাজের অর্থ আত্মসাৎ, দোকান বরাদ্দে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নারী শিক্ষককে হয়রানিসহ অনেক অভিযোগই ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বেশ কয়েকটির সত্যতাও পেয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে কমিটি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ১০ বছরে ৫৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসায়। এজন্য মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মাদ্রাসা মার্কেটের শতাধিক দোকান বরাদ্দের সময় প্রতিটি দোকান থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মার্কেট নির্মাণ, গর্ত ভরাটসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ তদন্তে উঠে এসেছে।
মাদ্রাসার অডিট কমিটির এক সদস্য নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বলেছেন, অর্থ কমিটি ও অডিট কমিটিকে পাশ কাটিয়ে অধ্যক্ষ নিজের সিদ্ধান্তে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করেছেন টাকা। গত এক দশকে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য অডিট পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
একটি হত্যাচেষ্টা ও দুটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান। ২৩ জুন ফেনীর আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশে ফেনী জেলা প্রশাসন গঠন করে তদন্ত কমিটি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফাতিমা সুলতানার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা সদস্য ছিলেন। কয়েক মাস আগে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, বিধি লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি এবং নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।




