লক্ষ্মীপুরে সুপেয় পানির সংকট, ভোগান্তিতে লোকজন
- গভীর নলকূপেও মিলছে না পানি

ফাইল ছবি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠছে না ডিপ টিউবওয়েল থেকেও। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রামগঞ্জ পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে থাকায় অধিকাংশ গভীর নলকূপ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এসব নলকূপ থেকে পানি না ওঠায় বাসিন্দাদের বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। বসানো হচ্ছে অগভীর নলকূপ।
সোনাপুর বাজারের বি সাহা সুইটসের পরিচালক সমীর রঞ্জন সাহা জানান, বাধ্য হয়ে আধা কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়ি থেকে সকাল বেলায় বড় বড় ড্রামে পানি আনতে হচ্ছে। রামগঞ্জ পৌরসভার স্থাপনকৃত পানির প্লান্ট থেকে যতটা পানি পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
টামটা গ্রামের আরিফ হোসেন জানান, কয়েক মাস ধরে পানি নেই বললেই চলে। ফলে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এ ছাড়া পুকুরের পানিতে রান্নাবান্নাসহ যাবতীয় কাজ করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বছর আগে নিজস্ব অর্থায়নে একটি গভীর নলকূপ বাড়িতে স্থাপন করি। পাঁচ-ছয় মাস ধরে সেই নলকূপ থেকে পানি ওঠে না। অথচ অগভীর নলকূপ থেকে ঠিকই পানি পাচ্ছি।
রতনপুর গ্রামের কোহিনুর বেগম অভিযোগ করে বললেন, প্রতিদিন নলকূপ চাপতে চাপতে হাত ব্যথা হয়ে যায়। পৌরসভা থেকে নিয়মিত পানি না পাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে রান্নার কাজ শেষ করতে পারি না।
রামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশ জুড়ে যে ভূমিকম্প হয়, তার উৎপত্তিস্থল ছিল রামগঞ্জ উপজেলার সিরুন্দি গ্রামে। ভূমিকম্পের কারণে রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এর ফলে সুপেয় পানির সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেছেন, টামটা এলাকায় আমাদের যে পানির প্লান্ট রয়েছে, এর মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ লিটার পানি তুলতে আগে সময় লাগত তিন ঘণ্টা। এখন পাঁচ ঘণ্টায়ও তা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, পানির চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আগামী দু-তিন দিন পর কাজীরখিল এলাকায় আমাদের আরও একটি পানির প্লান্ট চালু করা হলে কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা করি।
রামগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান, শিগগির এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক কাজী আতিকুর রহমান বললেন, ‘আমি রামগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেছি মাত্র চার-পাঁচ দিন হলো। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে এমপির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি।’



