মামলার শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট বেঞ্চ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এস আলম গ্রুপের ২৪টি শেয়ারহোল্ডার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে ইসলামী ব্যাংকের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের মালিক বনে গিয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর নতুন করে শুনানি করতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। বিষয়টির ওপর দুই কার্যদিবস শুনানির পর গতকাল বুধবার বিব্রতবোধ করেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ।
ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল কাউয়ূম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন। ফলে মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে এবং প্রধান বিচারপতি একটি নতুন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠাবেন।’
এই মামলায় একটি পক্ষ, ইসলামী অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইসলামিক ইকোনমিকস রিসার্চ ব্যুরো’র (আইইআরবি) আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, ‘দুদিন শুনানির পর বিব্রতবোধ করা ভালো কোনো নজির নয়।’
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই মামলায় হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি তদন্ত প্রতিবেদন ও একটি অডিট রিপোর্টে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার সরাসরি ভূমিকা দেখা যায়।
হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক ইসলামী ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণ বা বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহার করে ব্যাংকটির ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বনে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত চাওয়া হয় রিটে। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি করে হাইকোর্ট গত বছর অক্টোবরে আদেশ দেন। বিএফআইইউকে ২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়ের ওপর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
বিএফআইইউ আদালতে ৪২ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন ও একটি অডিট প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে উঠে এসেছে ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নানা তথ্য।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৭২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় এস আলমের যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়, সেগুলোর অন্যতম ছিল জেএমসি বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম এই জেএমসি বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। প্রতিবেদন অনুযায়ী মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন ২০১৭-এর ৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
রিট আবেদনে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সিনিয়র আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগামীর সময়কে বলেছেন, মো. সাহাবুদ্দিন যে সময় পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, তখন এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




