খেয়াঘাট সচলে তোলা হলো নদীর বালু, ভাড়া আদায়

ছবি: আগামীর সময়
শুকিয়ে গেছে নদীর পানি। চাইলে মানুষ হেঁটেই যেতে পারে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে। কিন্তু এতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় খেয়াঘাটের আয়। আর সেই আয় টিকিয়ে রাখতে নেওয়া হয়েছে অভিনব এক কৌশল।
অভিযোগ উঠেছে, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের একটি খেয়াঘাটে ইজারাদার নিজেই নদীতে বালু তুলে জলাবদ্ধতা তৈরি করেছেন। ফলে যেখানে মানুষ সহজেই হেঁটে পার হতে পারতেন, সেখানে আবার প্রয়োজন হয়েছে নৌকায় পারাপারের। আর সেই সুযোগে আদায় করা হচ্ছে পারাপারের ভাড়া।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও খেয়াঘাটের দায়িত্বে থাকা নোয়াজ আলী।
স্থানীয়দের দাবি, নদীতে স্বাভাবিকভাবে পানি না থাকলেও ইজারাদার পানি ধরে রেখে টাকা আদায় করছেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং সামাজিক মাধ্যমেও সরব হয়েছে অনেকে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, শিমুলবাগানের পশ্চিমে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয় মাহারাম নদীর এই ঘাটটি। চলতি বছর ৯২ হাজার ৫০০ টাকায় ঘাটটির ইজারা নেন ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী।
ইজারার শর্ত অনুযায়ী, নদীতে পানি থাকলেই কেবল যাত্রী ও পরিবহন পারাপারের ভাড়া আদায় করা যাবে। শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কিছুদিন বন্ধ ছিল ভাড়া আদায়। ইজারাদার আশা করেছিলেন বর্ষায় পানি বাড়বে, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না আসায় হেঁটেই নদী পার হচ্ছিলেন মানুষ। কয়েকদিন আগে ইজারাদার নদীর পারাপারের স্থানে বালু খনন করেন বলে অভিযোগ। এতে সেখানে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং নৌকা বসিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ভাড়া আদায়।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লালঘাট গ্রামের বাসিন্দা মুফতি আব্দুল ওয়াদিদ জানিয়েছেন, বাদাঘাটের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন তিনি। নিয়মিত যাতায়াত করেন এই পথে। শুকনা মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না, মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে প্রয়োজন হয়নি টাকার। কিছুদিন আগে বালু খনন করে নৌকা বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা।
সারওয়ার জাহান নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, টাকা আয়ের আধ্যাত্মিক পদ্ধতি দেখানো হয়েছে শিমুলবাগানের পাশের মাহারাম নদীতে। বালু উত্তোলন করে পানির প্রবাহ সৃষ্টি করে টাকার বিনিময়ে বাধ্য করা হচ্ছে চলাচলে। অথচ নদী শুকিয়ে যাওয়ায় সারা বছর বালুর ওপর দিয়ে চলাচল করছিল মানুষ।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী দাবি করেছেন, খেয়াঘাটের ইজারা তার চাচাতো ভাই নিয়েছেন। শর্ত অনুযায়ী নদীতে পানি থাকলেই আদায় করা যাবে ভাড়া।
সামাজিক মাধ্যমের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘তারা নদী থেকে বালু তুলে বসাননি ফেরি নৌকা। আজ নদীতে পানি এসেছে, তাই মানুষের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ফেরি নৌকা।
বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া জানিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষে খেয়াঘাটের ইজারা নিয়েছেন ইউপি সদস্য নোয়াজ আলী। নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেই কেবল ফেরি নৌকায় মানুষ ও যানবাহন পারাপার করা যাবে এবং সেক্ষেত্রে ভাড়া আদায় করতে পারবেন ইজারাদার। এর বাইরে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। তবে নদীতে বালু খনন করে ফেরি চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



