নাসিক
বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শহরবাসী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে গৃহস্থালি বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাৎক্ষণিক সাফল্য দেখালেও টানা ৬-৭ দিন ধরে বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঈদের ছুটিতে থাকায় এবং বিকল্প ব্যবস্থা না করায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেকে রাতের আঁধারে আশপাশের লেক ও জলাশয়ে ময়লা ফেলছেন। তবে বর্জ্য সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা, অন্যদিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের জল্লারপাড় লেক, জিমখানা মাঠ সংলগ্ন মূল সড়ক, পাইকপাড়া মিউচ্যুয়াল ক্লাবের সামনে, পাইকপাড়া ছোট কবরস্থানের পাশে বাবুর পুকুর সংলগ্ন রাস্তা, নয়াপাড়া, জিমখানা গণবিদ্যা স্কুলের প্রধান সড়ক এবং এমনকি সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভার বাড়ির সামনেও যত্রতত্র গৃহস্থালি বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এসব বর্জ্য পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং রাস্তার কুকুর-বেড়ালের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আত্মগোপনে থাকায় এই সংকটে তারা কার কাছে সহযোগিতা চাইবেন, তা বুঝতে পারছেন না।
ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া। তার মতে, সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান কর্তাব্যক্তিরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। ময়লার দুর্গন্ধে বাসার সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, অথচ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সমাধান কেউ দিতে পারছে না।
‘কাউন্সিলরদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে আওয়ামী লীগ করার কারণে ও মামলা থাকায় পলাতক রয়েছেন। ফলে বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সরিয়ে অন্য কোথাও রাখার মতো কোনো নির্দিষ্ট জায়গাও মানুষ পাচ্ছে না’—বলছিলেন জিমখানা এলাকার জব্বার হোসেন।
একই সুরে বলছিলেন দেওভোগ এলাকার কবির হোসেন। তার ভাষ্য, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত সরালেও দৈনন্দিন বর্জ্য সরাতে ব্যর্থ হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অথচ প্রতিটি ওয়ার্ডে এই ময়লা বাণিজ্য নিয়ে সবসময় প্রতিযোগিতা থাকে, কিন্তু এখন দুর্ভোগের দিনে কেউ এর দায় নিচ্ছে না।
ভোগান্তির সত্যতা স্বীকার করলেন সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা। বললেন, মানুষ সত্যিই দুর্গন্ধে কষ্ট পাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্যা লাঘবের চেষ্টা করছি।
তার ভাষ্য, এই এলাকায় বর্জ্য অপসারণের কাজে যারা নিয়োজিত তারা ঈদের ছুটিতে গেছেন, কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে যাননি। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে যেখানে-সেখানে গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলে রাখছে এবং ময়লা ও দুর্গন্ধ দুটোই ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে বর্জ্যজনিত ভোগান্তির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ। তিনি দাবি করেন, কোরবানির সব বর্জ্য সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের বর্জ্য নেই। স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি তার নজরে আনা হলে
‘এই ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো কেউ করেনি’—উল্লেখ করলেন আলমগীর হিরণ।
সার্বিক বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বললেন, কোরবানির বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ হয়েছে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে যেসব পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন, তারা ঈদের ছুটি থেকে এখনো ফেরেননি। ফলে সাময়িকভাবে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
‘আজই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডেকে বর্জ্য অপসারণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে’—এমন আশ্বাস দিলেন প্রশাসক সাখাওয়াত।




