রাতে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা, বাধা দিতে গিয়ে প্রাণ গেল দাদির

সংগৃহীত ছবি
সিলেটে গভীর রাতে এক কিশোরীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টাকালে বাধা দিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন দাদি। এ ঘটনায় কিশোরী ও তার মা গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ৩টার দিকে গোয়াইনঘাটের রুস্তুমপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিহত দিলারা বেগমের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত মা ও মেয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। কিশোরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, গভীর রাতে অজ্ঞাত তিন যুবক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ঘর থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকারে তার মা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে কিশোরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে দাদি বের হয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রতিবেশী আলকাছ মিয়া জানিয়েছেন, দিলারা বেগম তার প্রতিবন্ধী মেয়ে, নাতনি, এক প্রতিবন্ধী নাতি ও ছেলের বউকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে কয়েক মাস আগে প্রবাসে যান। ঘটনার রাতে কান্নার শব্দ শুনে তিনি গিয়ে দিলারা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
মা সাজনা বেগম জানিয়েছেন, রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। বজ্রপাতের আলোয় এক ব্যক্তিকে মেয়ের ওপর হামলা চালাতে দেখেন। বাধা দিতে গেলে তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে এ হামলা চালানো হয়েছে।




